ঢাকা, মার্চ ৯ (থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন) — বাংলাদেশের গার্মেন্ট কর্মীদের হুমকি দেওয়া, ভয় দেখানো এবং এমন কি শারীরিক ও যৌন নিগ্রহের হার বাড়ছেই। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের একটি প্রভাবশালী কমিটির এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি এমন তথ্য উঠে এসেছে। তারা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে জোর দিয়ে শ্রমিক অধিকার রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক বিভাগের কমিটির গবেষণা মতে ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের পরিবেশ উন্নত হয়েছে। কিন্তু কর্মীদের অধিকার রক্ষায় পিছিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
ডেমোক্রেট সিনেটর বব মেনেনডেজের প্রকাশ করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক তৈরি পোশাক কারখানা ভবন আগের চেয়ে নিরাপদ, কিন্তু কর্মীরা নন।”
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, “সাম্প্রতিক শ্রমিক অধিকার সরাসরি লঙ্ঘিত হয়েছে- কারণ, শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না, তারা বিক্ষোভ পর্যন্ত করতে পারছেন না। সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হলো কর্মীরা মৌখিক নিগ্রহের পাশাপাশি শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের মুখেও পড়ছেন।”
এ বিষয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শ্রমিক অধিকার রক্ষায় পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন যে এই ক্ষেত্রে আরো উন্নতির সুযোগ আছে।
পশ্চিমা দেশগুলোতে তৈরি পোশাক রপ্তানি করার ক্ষেত্রে চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। বাংলাদেশের ৮০ ভাগ বৈদেশিক মুদ্রা আসে এই খাত থেকে এবং এই খাতে ৪০ লাখের বেশি চাকরি আছে।
বেশ কিছু পশ্চিমা ফ্যাশন ব্রান্ড বাংলাদেশ থেকে তাদের পোশাক তৈরি করে নেয়। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প সাত বছর আগে রানা প্লাজা ধসের পর থেকে বিদেশি নজরদারির মধ্যে আছে। রানা প্লাজার ঘটনায় ১১৩৪ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কে.এম. আলি আজিম সিনেটের প্রতিবেদন দেখে বলেন, “কারখানা মালিকদের সাথে বিস্তারিত আলোচনার জন্য আমরা আন্তর্জাতিক কমিউনিটির সাথে কাজ করতে চাই।
সোমবার থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনকে তিনি বলেন, “আমরা এই প্রতিবেদন বিষয়ে আলোচনা করতে চাই এবং তাদের যে সব পরামর্শ নিয়ে কাজ করা সম্ভব, তা নিয়ে কাজ করতে চাই।”
গত সপ্তাহে প্রকাশিত গবেষণা কাজের জন্য গত জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা বাংলাদেশ সফর করেন। এ সময় তারা গার্মেন্টকর্মী, ইউনিয়ন কর্মী, সরকারি কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের সাথে আলোচনা করেন।
গবেষণাকালে তারা জানতে পেরেছেন ইউনিয়ন নেতারা হুমকি, ভয় প্রদর্শনের মতো পরিস্থিতি মোকাবেলা করেন। তারা আরো জানতে পেরেছেন, নারী কর্মীরা অনেক বেশি নিগ্রহের শিকার হন অথচ গার্মেন্টকর্মীদের মধ্যে সিংহভাগই নারী।
এ বিষয়ে আজিম বলেন সাম্প্রতিক নারী কর্মীদের নিগ্রহের শিকার হওয়ার মতো বড় কোনো অভিযোগ নেই।
গার্মেন্টকর্মীদের নিগৃহীত হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে ইউরোপিয়ান কয়েকটি ফ্যাশন ব্রান্ডের এক কর্মশালার পর যা ৩১ মে শেষ হয়েছে। তারা ১০০০ বেশি কারখানায় কাজের পরিবেশ উন্নত হওয়ার প্রশংসা করেছেন।
উল্লেখিত কর্মশালাটি ভবিষ্যতে স্থানীয় নজরদারি করা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা হবে। কারখানা মালিক, ইউনিয়ন নেতা এবং ব্রান্ড মালিকদের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি গঠিত হবে।