লিখেছেন নাঈমুল করিম
ঢাকা, এপ্রিল ১৪ (থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন) - বাংলাদেশের শ্রমিক ইউনিয়নগুলো জানিয়েছে যে, করোনাভাইরাস লকডাউনের কারণে অনেক পশ্চিমা ব্রান্ড ক্রয়াদেশ বাতিল করে দেওয়ায় অন্তত ১০,০০০ গার্মেন্টকর্মী চাকরি হারিয়েছেন। ইউনিয়নগুলো এই পরিস্থিতি সামলাতে সরকারকে আহবান জানিয়েছে।
বাংলাদেশের কারখানা মালিকদের দাবি, পশ্চিমা ব্রান্ডগুলো তিন বিলিয়ন ডলার মূল্যের ক্রয়াদেশ বাতিল করেছে অথবা ঝুলিয়ে রেখেছে। পশ্চিমা দেশগুলোতে যারা তৈরি পোশাক রপ্তানি করে, বাংলাদেশ তাদের অন্যতম।
বাংলাদেশ শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা কল্পনা আক্তার এ বিষয়ে বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি যে ৩৭টি কারখানার অন্তত ১০,০০০ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। বাস্তব পরিস্থিতি হয়তো আরো খারাপ হতে পারে।” শ্রমিক ঐক্য পরিষদ হলো তিনটি প্রতিষ্ঠানের একটি যারা চাকরি হারানো শ্রমিকদের তালিকা করেছে।
কল্পনা আরো বলেন, “আগামী দুই তিন মাসের মধ্যে এই শ্রমিকরা অন্য কোথাও চাকরি পাবেন না। সুতরাং তাদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে এবং এটা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
শ্রম মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন যে সরকারের পক্ষ থেকে কারখানা মালিকদেরকে কোনো শ্রমিক ছাঁটাই করতে নিষেধ করা হয়েছে।
শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব কে.এম. আলি আজম থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনকে বলেন, “আমরা এই বিষয়ে পর্যালোচনা করবো এবং শ্রমিকদের রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
পশ্চিমা দেশগুলোতে তৈরি পোশাক রপ্তানি করার ক্ষেত্রে চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশই আসে এই খাত থেকে এবং এই খাতে ৪০ লাখের মতো শ্রমিক কাজ করেন, যাদের বেশির ভাগই নারী।
পুলিশ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে সরকারি লকডাউন ভেঙে কয়েক হাজার শ্রমিক বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
ফাতিমা নামের একজন কর্মী জানান মার্চের শেষ দিকে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয় এবং ওই মাসের বেতনও তাকে দেওয়া হয়নি।
পুরো নাম প্রকাশ না করা ২৬ বছর বয়সী ফাতিমা বলেন, “এটা খুবই অপ্রত্যাশিত ছিলো। আমি কাজ করতে করতেই শুনেছি যে আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমি জানি না এই টাকা কবে পাবো। আমার একটি সন্তান আছে। বুঝতে পারছি না এখন কী করবো।”
গুরুত্বপূর্ণ এই রপ্তানি খাতের শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ৫৮৮ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রকল্প ঘোষণা করেছে। কিন্তু শ্রমিক নেতাদের দাবি, এই অর্থ যথেষ্ট নয়।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি রুবানা হক বলেন কারখানাগুলোকে বলে দেওয়া হয়েছে তারা যাতে কোনো শ্রমিককে যেতে না দেন।
তিনি বলেন, “আমাদের কথা বেশির ভাগ কারখানা মালিকরাই শুনেছেন। কিন্তু অল্প কয়েকজন শোনেননি। এখন খুব কঠিন সময় যাচ্ছে, না হলে আমরা সব কারখানাকেই ছাঁটাই করতে নিষেধ করতাম।”
ফ্যাশনপণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান প্রাইমার্ক ক্রয়াদেশ বাতিল করার কারণে যে সব শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাদের বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্য দিকে এইচএন্ডএম বলেছে, তাদের সরবারহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে কর্মীদের সহায়তা করে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যান্য ব্রান্ডগুলোকেও এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কল্পনা আক্তার।
তিনি বলেন, “যদি পশ্চিমা ক্রেতা ও ফ্যাশন ব্রান্ড মালিকরা শ্রমিকদের সহায়তার জন্য এগিয়ে না আসেন, তাহলে বিপর্যয় ঘটে যাবে।”
Our Standards: The Thomson Reuters Trust Principles.
